Loading ...
Sorry, an error occurred while loading the content.
 

নির্বাচন ক মিশন পুনর্ গঠনে প্রেস িডেন্টের ক ্ষমতা একচ্ ছত্র নয়

Expand Messages
  • Shahadat Hussaini
    অনুচ্ছেদ ৪৮, ৫৬ ও ৯৫ : নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে
    Message 1 of 1 , Jan 1, 2012
      অনুচ্ছেদ ৪৮, ৫৬ ও ৯৫ : নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা একচ্ছত্র নয়
       
      নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান হঠাৎ করে কেন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শুরু করেছেন সেটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অনেকের কাছেই ভালভাবে বোধগম্য হচ্ছে না। এটি কি শুধুই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের জন্য করা হচ্ছে? না কি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে? সেটিও এই মুহূর্তে পরিষ্কার নয়। এর আগে শাসক দলের তরফ থেকে বলা হয়েছিলো যে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব। শাসকগাষ্ঠি দেশবাসীকে এই ধারণা দিতে চাচ্ছেন যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে প্রধান অন্তরায় হলো একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অভাব। সরকারের এই ধরনের বক্তব্য থেকে মনে হয় যে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন ঠিকঠাক মতো পুনর্গঠন করলেই দেশে আর কোনো রাজনৈতিক সমস্যা থাকবে না। ইলেকশন হবে সুষ্ঠুভাবে। আসলেই এই ধরনের বক্তব্য জনগণকে ধোকা দেয়া ছাড়া আর কিছু নয়। সরকার এসব কথা বলে ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেয়ার ব্যর্থ প্রয়াস চালাচ্ছে। সারাদেশ জানে যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে প্রধান অন্তরায় হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলোপ সাধন এবং দলীয় সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা। এটা করা হয়েছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
      এই সরকারের বিগত ৩ বছরের শাসনামল ঠান্ডা মাথায় পর্যালোচনা করলে একটি জিনিস স্পষ্ট হয়ে যায়। সেটি হলো, সরকার কি করবে সেটা আগে ভাগে ঠিক করে রাখে। এরপর সংলাপের নাম করে বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে। বিভিন্নজন যে মতামতই দেন না কেন সেইসব মতামতের কোনো তোয়াক্কা সরকার করে না। তোয়াক্কা না করে নিজেরা যেটা আগে ভাগে ঠিক করে রাখে সেটাই জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর বেলাতেও সেটিই ঘটেছে।
      সকলেরই মনে আছে যে বছর দুই আগে সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করে। এই কমিটির কো-চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। কমিটি কি করবে সে সম্পর্কে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। তারপরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং প্রাক্তন বিচারপতিগণকে মতামত প্রদানের জন্য সুরঞ্জিত কমিটির তরফ থেকে আহবান জানানো হয়। বিএনপি এই কমিটির সাথে মত বিনিময়ে বসেনি। জামায়াতে ইসলামীকে ডাকাই হয়নি। অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিরা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, আইনজ্ঞরা এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা কমিটির নিকট তাদের লিখিত মতামত প্রদান করেন। যাদের ডাকা হয়েছিলো তাদের ৯৫ শতাংশই লিখিতভাবে জানিয়ে দেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনেই নির্বাচন করতে হবে।
      তখন সরকার পক্ষ থেকে যুক্তি দেয়া হয় যে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায়, অর্থাৎ বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্থান থেকে রায় দেয়া হয়েছে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ। তাই এই ব্যবস্থা আর রাখা যায় কিভাবে? এই জন্য অবিলম্বে এই ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। তখন বলা হয় যে সুপ্রিমকোর্টের ঐ রায়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করার কথা বলা হলেও পরবর্তী দুইটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই করার সুপারিশ রয়েছে। সে কথাও যখন সরকার শুনছিলো না তখন বলা হলো যে সেটি তো মাত্র ৪/৫ লাইনের রায়। বিস্তারিত রায় এখনও লেখাই হয়নি। সুতরাং বিস্তারিত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা হোক। কিন্তু কোনো কথা শুনতে রাজি নয় সরকার পক্ষ এবং তারা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেই ছাড়লো। অথচ সেদিন কেন, আজ রোববার, অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত সেই রায় লেখাই হয়নি। কিন্তু ইতোমধ্যেই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংশোধনী অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে গেছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল সংক্রান্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের ৪ লাইনের রায়টি ঘোষিত হয়েছে গত বছরের অর্থাৎ ২০১১ সালের ১০ মে। আর জাতীয় সংসদ পঞ্চদশ সংশোধনী বিলটি পাশ করেছে সুপ্রিমকোর্ট রায়ের ১ মাস ২০ দিন পর। সেদিন কেন, আজ অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ৪ লাইনের রায় ঘোষণার ৭ মাস ২০ দিন পরেও খায়রুল হক সাহেব সেই রায়টি লেখেননি। তাহলে অমন তাড়াহুড়া করে ৪ লাইনের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো দুরভিসন্ধি কাজ করেছিলো। পরিষ্কার বোঝা যায়, শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কাঁধে বন্দুক রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বধ করেছেন। আর খায়রুল  হক সাহেব শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য প্রধান বিচারপতির কাঁধটি পেতে দিয়েছিলেন। সুতরাং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে যেসব অন্তরায় রয়েছে তারমধ্যে এক নম্বর এবং সর্বপ্রথম হলো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল এবং দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা। সেই অন্তরায়টি দূর না করে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করলে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। তাই বলছিলাম যে সরকার যে সংলাপ শুরু করেছেন সেটি ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেয়ার শামিল।
      \ দুই \
      প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জিল্লুল রহমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে আলোচনা শুরু করেছেন। বলা হচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন গঠন তথা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দান প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতার মধ্যে পড়ে। সংবিধানের ১১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া এবং রাষ্ট্রপতি সময়ে সময়ে যেরূপ নির্দেশ করিবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন   কমিশনারকে নিয়োগ করিবেন'।
      সম্ভবত এই অনুচ্ছেদের বলে বলীয়ান হয়েই রাজনীতিকদের সাথে সংলাপের উদ্বোধনী লিখিত ভাষণে গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আপনারা হয়ত এও অবগত আছেন যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠন অর্থাৎ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে'। প্রেসিডেন্টের এই উক্তিটি আপাত দৃষ্টিতে সঠিক মনে হতে পারে। কিন্তু সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদকে বিচ্ছিন্ন ভাবে পড়া যায় না। একটি অনুচ্ছেদ অন্য কোনো অনুচ্ছেদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। তাই এই ব্যাপারটি ভালোভাবে বুঝতে হলে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ পড়তে হবে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন'।
      প্রিয় পাঠকদের কাছে তাৎক্ষনিক রেফারেন্স হিসাবে আমি ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ নীচে উদ্ধৃত করছি। ৫৬(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতিয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন'। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসরণ করবেন। ৯৫(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন'।
       \ তিন \
      এই চারটি অনুচ্ছেদ একসাথে পড়লে স্পষ্ট হয়ে যায় যে উদ্বোধনী   ভাষণে প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন সেটি সঠিক নয়। কারণ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি উভয়ের নিয়োগের ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। কারণ, সংসদ সদস্যদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে প্রেসিডেন্ট ডেকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করতে পারেন না। বরং সংসদের যে সদস্য অধিকাংশ সদস্যের আস্থাভাজন অথবা নেতা হিসাবে প্রতিভাত হবেন তাকেই মন্ত্রীসভা গঠনের জন্য প্রেসিডেন্ট আহবান জানাবেন। প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা বা সংলাপ সমাপ্ত করার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন যে কাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করা যায় এবং কাদেরকে নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করা যায়। এক্ষেত্রেও তার ক্ষমতা একচ্ছত্র নয়। এক্ষেত্রে ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যন্য নির্বাচন কমিশনারগণকে প্রেসিডেন্ট নিয়োগদান করবেন। তাহলে ব্যাপারটি দাঁড়াচ্ছে ঘুরেফিরে ‘ব্যাক টু স্কয়ার ওয়ানে'। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী যে পরামর্শ দেবেন তার বাইরে সাংবিধানিক ভাবেই প্রেসিডেন্ট যেতে পারবেন না। তাহলে আর এই সংলাপ কেন? এই সংবিধানে প্রেসিডেন্ট যে ঠুটো জগন্নাথ সেটা কে না জানে? তাই  প্রেসিডেন্টের উদ্যোগ চূড়ান্ত পরিণামে প্রধানমন্ত্রীর গুপ্ত এজেন্ডাকে সংলাপের মোড়কে জায়েজ করার শামিল বলে রাজনৈতিক পর্যক্ষেকরা মনে করেন।
      জনাব জিল্লুর রহমান বাংলাদেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। তার পদমর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি যে বয়োবৃদ্ধ হলেও প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেন নি। তিনি নওগাঁর ২১ জন খুনের আসামিকে তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে খালাস করে দিয়েছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে মামলা হাইকোর্টে পেন্ডিং ছিলো। তিনি লক্ষ্মীপুরের এডভোকেট নুরুল ইসলামের খুনিকেও বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মাফ করে দিয়েছেন। তিনি সরকারি দলের উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর পুত্রকে মাফ করে দিয়েছেন। যাদেরকে তিনি মাফ করে দিয়েছেন তারা সকলেই আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা বা কর্মী। এদেরকে মাফ করে দিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রমাণ করেছেন যে অশতিপর বৃদ্ধ হয়েও তিনি আওয়ামী লীগের বলয় থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। দেশের রাজনীতির যে গতিধারা সেটি দেখে মনে হচ্ছে যে দেশকে অঘোষিত ভাবে একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখান থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান। প্রেসিডেন্ট যদি এই বয়সে দেশের জন্য কিছু করতে চান তাহলে তার কাজ হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই কঠোর সত্যটি বোঝানো যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারই এখন প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নয়। নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন অবশ্যই চাই। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সেটি হবে এক অর্থহীন প্রয়াস।
      Email: asifarsalan15@...
    Your message has been successfully submitted and would be delivered to recipients shortly.