Loading ...
Sorry, an error occurred while loading the content.

বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে অশনি

Expand Messages
  • Shahadat Hussaini
    বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে অশনি সঙ্কেত বদরুদ্দীন উমর 
    Message 1 of 1 , Sep 29, 2011
    • 0 Attachment

      বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে অশনি সঙ্কেত

      বদরুদ্দীন উমর

      খালেদা জিয়া তাদের আয়োজিত ২৭ সেপ্টেম্বরের জনসভায় স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত না হলে অথবা সব দলের সম্মতিক্রমে নির্বাচন কমিশন গঠিত না হলে তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না অর্থাত্ নির্বাচন বয়কট করবেন। এটা তাদের কোনো নতুন কথা নয়। যখন থেকে আওয়ামী লীগ জোট সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা উঠিয়ে দেয়ার কথা বলেছে ও শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে আইন পাস করে তা উঠিয়ে দিয়েছে, তখন থেকেই বিএনপি তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তা না হলে আগামী নির্বাচন বয়কট করার কথা বলে আসছে।

      বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর প্রধান দলগুলো বিশেষত বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ একাধিকবার ক্ষমতায় থাকলেও, শুধু ক্ষমতায় থাকলেই নয়, এ দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এলেও এদের সব থেকে তাত্পর্যপূর্ণ ব্যর্থতা হলো নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা। এদের এ অবস্থা দেখে মনে হয়, অভিজ্ঞতা বলে কিছু এদের চেতনায় নেই! এত কিছু ঘটনা দেশে ঘটে চললেও এবং এসব ঘটনার সঙ্গে এদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের কোনো ক্ষমতা এদের নেই!

      এ কথা বলার কারণ সাধারণ লোকরাও অনেকে অভিজ্ঞতা থেকে সঠিক শিক্ষা লাভ করতে সক্ষম হলেও অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষার কোনো চিহ্ন বাংলাদেশের অপরিপকস্ফ বুর্জোয়া শাসকশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের মধ্যে দেখা যায় না। এ শিক্ষা যদি এখন আওয়ামী লীগ দল ও তাদের নেত্রীর থাকত তাহলে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়ে সরাসরি নিজেদের সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে গিয়ে বিএনপির কী অবস্থা হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগের নিজের ভূমিকা কী ছিল এ কথা ভুলে গিয়ে ১৯৯৬ সালে বিএনপি যা করেছিল ঠিক সে কাজই আবার আওয়ামী লীগ করত না।

      যারা ছোট মনের মানুষ তারা ঘটনাচক্রে ক্ষমতার মসনদে বসলে ব্যতিক্রমহীনভাবে তাদের সহজ বুদ্ধি ঘোলা হয়ে যায় এবং এই ঘোলাটে বুদ্ধিই তাদের সর্বনাশ ডেকে আনে। বাংলাদেশেও ১৯৭২ সাল থেকে আমরা এটাই বারবার দেখে আসছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার উঠিয়ে দিয়ে সরাসরি নিজেদের দলীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের অপার নির্বুদ্ধিতারই পরিচয় আছে। ক্ষমতার মদমত্ততার মধ্যেই এই নির্বুদ্ধিতার জন্ম। এ সিদ্ধান্তের ফলে শুধু যে আওয়ামী লীগেরই সর্বনাশ হবে তা-ই নয়, সারা দেশে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। ওই পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় তার জন্য এখন একমাত্র করণীয় কাজ হলো, ১৯৯৬ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সেটা আবার প্রবর্তন করা। কিন্তু শেখ হাসিনা মসনদে বসে ক্ষমতার মদমত্ত অবস্থায় তার ঘোলাটে বুদ্ধি দিয়ে যে এ কাজ সহজে করার পাত্রী নন, এটা সবাই জানে। ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের নির্বাচন বয়কটের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এবার পরিস্থিতি আরও কঠিন। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ জোট সরকারের বিরুদ্ধে জনমত দেশজুড়ে যেভাবে উত্তপ্ত হয়েছে এবং আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই উত্তাপ যেভাবে বৃদ্ধি পাবে, তাতে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে কি না এ বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। বিপদ এর মধ্যেই। কারণ সে পরিস্থিতিতে নির্বাচনের পরিবর্তে সরকারের বিরুদ্ধে এমন এক বিরাট গণ-অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা—যার ধাক্কায় সরকার উত্খাত হয়ে সৃষ্টি হবে এক শাসনতান্ত্রিক শূন্যতা। কোনো কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থার অবর্তমানে এ শূন্যতা পূরণ করতে এগিয়ে আসবে সামরিক বাহিনী। বাংলাদেশে আবার ফখরুদ্দীনের মতো কোনো শিখণ্ডী খাড়া করে জারি হবে বেনামি এক সামরিক শাসন। ভবিষ্যতের এমনই এক চিত্র এখন স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে।

      বাংলাদেশে বুর্জোয়া শাসকশ্রেণীর রাজনৈতিক দলগুলোর অবক্ষয় ও দেউলিয়াপনা নেতিবাচকভাবে সমগ্র পরিস্থিতির ওপর যে নির্ধারক প্রভাব বিস্তার করছে তাতে বাধা এবং অন্য খাতে প্রবাহিত করা সম্ভব হতো, যদি এখানে কোনো শক্তিশালী সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব থাকত। এদিক দিয়ে বাস্তব অবস্থা এই যে, বামপন্থী ও কমিউনিস্ট নামে পরিচিত পুরাতন রাজনৈতিক দলগুলোর এখন যে শুধু ভগ্নদশা তা-ই নয়, এগুলোর সমাজতান্ত্রিক চরিত্র বলেও কিছু নেই। এরা প্রকৃতপক্ষে এখন শাসকশ্রেণীর বাম অংশ হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব কোনোক্রমে টিকিয়ে রেখেছে। এদের অবস্থার এমন প্রান্তিকীকরণ ঘটেছে, যাতে রাজনীতির ক্ষেত্রে এদের কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশের নব্য মধ্য শ্রেণীর নতুন প্রজন্ম থেকে নিয়ে প্রায় সব অংশের মধ্যে সমাজ-চেতনার ও প্রগতিশীল চিন্তার অভাব প্রকট হওয়ার কারণে কৃষক-শ্রমিকসহ সব শ্রমজীবী জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজ করা তাদের দ্বারা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে প্রকৃত সমাজতান্ত্রিক শক্তির শারীরিক বিকাশ ও শক্তি বৃদ্ধি যে সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য। মধ্য শ্রেণীর মধ্যে গভীর সঙ্কট সৃষ্টি হয়ে, তার মধ্যে ভাঙনের অবস্থা তৈরি হয়ে, যত দিন পর্যন্ত না তাদের একটা অংশ শ্রমজীবী জনগণের মধ্যে নিজেদের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতে এগিয়ে আসছে, তত দিন এ অবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সঙ্কট যেভাবে তৈরি হচ্ছে ও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার দ্বারা অদূর ভবিষ্যতেই মধ্য শ্রেণী গুরুতরভাবে সঙ্কটাপন্ন হওয়ার কথা।

      ওই সঙ্কটের পরিণতিতে ভবিষ্যতের গর্ভে কী আছে, সেদিকে এ মুহূর্তে তাকিয়ে না থেকে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তি দুর্বল হলেও দেশের জনগণকে ওপরে উল্লিখিত বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার চেষ্টা তাদের সর্বতোভাবে করা দরকার। সতর্কীকরণের এ কাজের প্রভাব রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রে তুচ্ছ ব্যাপার নয়।
      [সূত্রঃ আমার দেশ, ২৯/০৯/১১]
    Your message has been successfully submitted and would be delivered to recipients shortly.